রাজশাহীর সেরা কলেজ — একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তালিকা
To read this in English, visit: Best Colleges in Rajshahi — the Class XI Admission List
রাজশাহীকে শিক্ষানগরী বলা হয় অভ্যাসবশত নয়। উত্তরবঙ্গের আটটি জেলা এই বোর্ডের অধীন, আর সেই পুরো অঞ্চলের ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ একাদশ শ্রেণিতে রাজশাহী শহরের দিকেই তাকায়। ফলে শহরের কলেজগুলোতে প্রতিযোগিতা কেবল শহরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
এর একটি সরাসরি ফল হলো আবাসনের প্রশ্নটি এখানে অন্য শহরের চেয়ে আগে আসে। রাজশাহীতে আবেদন করা মানে অনেকের ক্ষেত্রেই বাড়ি ছেড়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া, আর সেই সিদ্ধান্তটি কলেজ বাছাইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে — আবাসিক ব্যবস্থা আছে এমন কলেজ তালিকায় আলাদা গুরুত্ব পায়।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্যটি হলো ছাত্রীদের জন্য কলেজের সংখ্যা। রাজশাহী জেলার তালিকায় মহিলা কলেজের সংখ্যা দেশের বেশিরভাগ জেলার তুলনায় স্পষ্টতই বেশি — শহরে এবং উপজেলায় দুই জায়গাতেই। ছাত্রীদের জন্য এটি প্রকৃত অর্থে বিকল্পের প্রাচুর্য, যা সব শহরে থাকে না।
রাজশাহীের সেরা কলেজ — তালিকা
| কলেজ | কেন তালিকায় | মূল তথ্য |
|---|---|---|
| রাজশাহী কলেজ | দেশের প্রাচীনতম কলেজগুলোর একটি এবং এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক নাম। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১২৬৪৯০ |
| নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ | শহরের দ্বিতীয় প্রধান সরকারি কলেজ; রাজশাহী কলেজের ঠিক পরেই সবচেয়ে বেশি চাহিদা। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১২৭০৩৮ |
| রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ | ছাত্রীদের জন্য শহরের প্রধান সরকারি কলেজ, তিন বিভাগেই ভর্তি নেয়। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১২৬৪৮৭ |
| রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ | শীর্ষ দুটির তুলনায় প্রতিযোগিতা কম, অথচ সরকারি কলেজের সব সুবিধা। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১২৬৪৮৯ |
| রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ | দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠান; স্কুল থেকে ধারাবাহিকভাবে একাদশে ওঠার সুযোগ। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১২৬৪৫৬ |
| রাজশাহী সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ | শহরের ভেতরে, ফল ধারাবাহিক; আসনের একটি অংশ নিজস্ব শিক্ষার্থীদের জন্য। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১২৭০৪৩ |
| রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ | সেনানিবাস পরিচালিত; শৃঙ্খলা ও ফলের জন্য পরিচিত, নিজস্ব নিয়মকানুন আছে। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১৩৭৬৮৬ |
এই তালিকা কীভাবে ব্যবহার করবে
উত্তরবঙ্গের জেলা থেকে আবেদন করলে তালিকা সাজানোর আগে থাকার ব্যবস্থার প্রশ্নটির উত্তর ঠিক করে নাও। আত্মীয়ের বাসা, কলেজের আবাসিক ব্যবস্থা নাকি মেস — এই তিনটির কোনটি বাস্তবসম্মত তা জানা না থাকলে ভর্তি হওয়ার পরেই সমস্যাটি বড় হয়ে দেখা দেয়, আর তখন কলেজ বদলানোর সুযোগ প্রায় থাকে না।
ছাত্রীদের জন্য রাজশাহীতে বিকল্প বেশি, আর সেই প্রাচুর্যকে কাজে লাগানোর উপায় হলো তালিকায় বৈচিত্র্য রাখা — শহরের প্রধান সরকারি মহিলা কলেজের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম প্রতিযোগিতার এক-দুটি নামও রাখা। একই স্তরের সব কলেজ দিয়ে তালিকা ভরালে ভরসার জায়গাটি থেকে যায় না।
জেলার তালিকায় উপজেলার কলেজও আছে অনেক। নিজের উপজেলার একটি ভালো কলেজ তালিকার নিচের দিকে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ — শহরে সুযোগ না হলে সেটি বাড়ির কাছেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নিশ্চিত পথ হয়ে থাকে।
একাদশ ভর্তি ২০২৬-২৭ — সময়সূচি (নীতিমালা প্রকাশিত)
| ধাপ | তারিখ |
|---|---|
| এসএসসি ২০২৬ ফল প্রকাশ | ১০ আগস্ট ২০২৬ |
| ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ | ২৪ আগস্ট ২০২৬ |
| অনলাইন আবেদন শুরু | ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| আবেদনের শেষ সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা |
| মেধাতালিকা প্রকাশ | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা |
| নিশ্চায়নের শেষ সময় | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা |
| কলেজে ভর্তি | ২০–২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| ক্লাস শুরু | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| ভর্তি পরীক্ষা | কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতে নেই |
| আবেদনের ঠিকানা | xiclassadmission.gov.bd |
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালা প্রকাশিত হয়েছে ২৪ আগস্ট ২০২৬, আর আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সতর্ক থেকো: এখনো অনেক ওয়েবসাইট গত বছরের (২০২৫-২৬) সময়সূচি শুধু সাল বদলে "২০২৬-২৭" বলে দেখাচ্ছে — সেখানে আবেদন শুরু জুলাই মাসে লেখা, যা এবারের জন্য ভুল। আবেদনের আগে xiclassadmission.gov.bd-এর মূল বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নাও।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রতিটি চক্রে এটি বদলায় এবং নির্ভর করে ওই বছর কতজন কী ফল নিয়ে আবেদন করল তার ওপর। কলেজ তার ন্যূনতম যোগ্যতা নিজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করে; আমরা এখানে কোনো সংখ্যা লিখি না, কারণ যাচাই না করা সংখ্যা লিখলে সেটি বছরের পর বছর ভুল হয়ে পাতায় থেকে যায়।
না, এবং যেখানে আছে সেখানেও আসন সীমিত ও আলাদা আবেদনের বিষয়। ভর্তির পর আপনাআপনি আবাসিক আসন পাওয়া যায় না — কলেজের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় আলাদাভাবে আবেদন করতে হয়, তাই ভর্তির সময়ই খোঁজ নিয়ে রাখা ভালো।
যাবে। কেন্দ্রীয় আবেদনে বোর্ডের সীমা নেই, তাই যেকোনো বোর্ড থেকে পাস করে রাজশাহীর কলেজ পছন্দক্রমে রাখা যায়। ভর্তির পর নিবন্ধন সংক্রান্ত কাজটি নতুন বোর্ডের অধীনে হবে, যা কলেজই সম্পন্ন করে।
কেন্দ্রীয় ভর্তি পোর্টালের নিজস্ব কলেজ তালিকা থেকে — যেটি আবেদনপত্র নিজেই পড়ে। তাই নাম ও EIIN দুটোই যাচাই করা। তালিকায় থাকা মানেই কলেজটি এই চক্রে কেন্দ্রীয় আবেদনে ভর্তি নিচ্ছে।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















