বর্ষার শুরু অর্থাৎ আষাঢ়-শ্রাবণ মাস চারা রোপণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, কারণ তখন মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকে এবং চারা সহজে শিকড় ছড়াতে পারে।
বাংলা · বাংলা রচনা
বৃক্ষরোপণ
বৃক্ষরোপণ রচনা — গাছের প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা ও বনায়ন কর্মসূচি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রচনা।
ভূমিকা
বৃক্ষরোপণ কেবল একটি কর্মসূচি নয়, ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। একটি গাছ লাগানোর অর্থ অক্সিজেন, ছায়া, ফল ও মাটির রক্ষাকবচ — সবকিছু একসঙ্গে নিশ্চিত করা।
মূল আলোচনা
গাছ মানুষের সবচেয়ে নিঃস্বার্থ বন্ধু। সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ছাড়ে, যা ছাড়া প্রাণিজগৎ এক মুহূর্তও টিকতে পারে না।
বৃক্ষ জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। গাছপালা বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বাতাসে আর্দ্রতা যোগ করে বৃষ্টিপাত ঘটায় এবং তাপমাত্রা সহনীয় রাখে। শহরে গাছের সারি থাকলে গ্রীষ্মে তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি পর্যন্ত কম থাকে।
মাটির ক্ষয় রোধেও গাছের বিকল্প নেই। শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে বলে বৃষ্টির পানিতে উপরিভাগের উর্বর মাটি ভেসে যায় না। নদীভাঙন ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমাতে বনায়নই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
উপকূলীয় অঞ্চলে গাছ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা দেয়াল হিসেবে কাজ করে। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন বারবার ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কা সামলে দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষকে রক্ষা করেছে — এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক ঢাল।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও বৃক্ষরোপণ লাভজনক। ফল, কাঠ, ওষুধি গাছ ও মধু থেকে আয় হয়; নার্সারি ও বনজ শিল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বাড়ির আঙিনায় কয়েকটি ফলগাছ পরিবারের পুষ্টির চাহিদাও মেটায়।
অথচ নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও কৃষিজমি সম্প্রসারণের চাপে বন কমছে। বিশেষজ্ঞদের মতে একটি দেশের মোট আয়তনের অন্তত এক-চতুর্থাংশ বনভূমি থাকা দরকার, কিন্তু আমাদের বনভূমি সেই মানদণ্ডের অনেক নিচে।
সমাধান কঠিন নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিকতা। বর্ষার শুরুতে বৃক্ষরোপণ অভিযান, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাছ লাগানোর কর্মসূচি এবং সড়ক ও বাঁধের পাশে বনায়ন — এসব উদ্যোগ নিয়মিত হলে কয়েক বছরেই পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়।
গাছ লাগানোর চেয়েও কঠিন কাজ গাছ বাঁচিয়ে রাখা। চারা রোপণের পর বেড়া দেওয়া, পানি দেওয়া ও দেখভাল না করলে অধিকাংশ চারাই মরে যায়। তাই প্রতিটি কর্মসূচির সঙ্গে পরিচর্যার দায়িত্বও ভাগ করে দেওয়া দরকার।
শিক্ষার্থীরা এ কাজে বড় শক্তি হতে পারে। স্কুল-কলেজের বিজ্ঞান ক্লাব বা স্কাউট দল যদি প্রতি বছর নির্দিষ্টসংখ্যক চারা রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়, তবে এক প্রজন্মেই সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
উপসংহার
তাই প্রতিটি মানুষের অন্তত একটি করে গাছ লাগানো ও বাঁচিয়ে রাখা উচিত। আজকের চারা আগামী দিনের ছায়া, বাতাস ও নিরাপত্তা — এ কথা মনে রাখলেই বৃক্ষরোপণ আন্দোলনে পরিণত হবে।
উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের মোট আয়তনের অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা দরকার বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন; বাংলাদেশে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
আরও বাংলা রচনা পড়ো
বাংলা রচনা-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















