তৎসম শব্দ সংস্কৃত থেকে অবিকৃতভাবে এসেছে (চন্দ্র, হস্ত)। তদ্ভব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মধ্য দিয়ে বিবর্তিত হয়ে বদলে গেছে (হাত, ভাত)।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দ
উৎস অনুসারে বাংলা শব্দের শ্রেণিবিভাগ — তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দ উদাহরণসহ।
সংজ্ঞা
উৎস অনুসারে বাংলা শব্দকে তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি — এই কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। কোন শব্দ কোথা থেকে এসেছে, সেটিই এই ভাগের ভিত্তি।
বিস্তারিত আলোচনা
সংস্কৃত থেকে অবিকৃতভাবে বাংলায় আসা শব্দকে তৎসম বলে — যেমন চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, মস্তক। এই শব্দগুলো সংস্কৃতে যেমন ছিল, বাংলাতেও ঠিক তেমনই আছে। অর্ধ-তৎসম শব্দ সংস্কৃত থেকেই এসেছে, কিন্তু কিছুটা বিকৃত হয়ে — যেমন জ্যোৎস্না থেকে জ্যোছনা, শ্রাদ্ধ থেকে ছেরাদ্দ, গ্রহ থেকে গেরো।
তদ্ভব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মধ্য দিয়ে বিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে, তাই এদের চেহারা অনেকটাই বদলে গেছে — সংস্কৃত হস্ত থেকে হাত, চর্মকার থেকে চামার, ভক্ত থেকে ভাত। এগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়, কারণ বাংলা ভাষার মেরুদণ্ড এই শব্দগুলোই।
দেশি শব্দ এসেছে এ অঞ্চলের আদি অধিবাসীদের ভাষা থেকে — কুলা, ডাব, ঢেঁকি, চোঙা। আর বিদেশি শব্দ এসেছে বাণিজ্য, শাসন ও ধর্মের সূত্রে নানা ভাষা থেকে: আরবি (আল্লাহ, কিতাব, আদালত), ফারসি (চশমা, দোকান, বাগান), তুর্কি (চাকু, তোপ), পর্তুগিজ (আলমারি, চাবি, বালতি), ইংরেজি (স্কুল, টেবিল, ডাক্তার)।
মনে রাখার কথা
তৎসম শব্দ চেনা জরুরি, কারণ ণত্ব-ষত্ব বিধান ও ঈ-কার সংক্রান্ত বানান নিয়ম কেবল সেখানেই প্রযোজ্য।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
এ অঞ্চলের আদি অধিবাসীদের ভাষা থেকে বাংলায় আসা শব্দকে দেশি শব্দ বলে — যেমন কুলা, ডাব, ঢেঁকি, চোঙা, ডাগর।
প্রধানত আরবি, ফারসি, তুর্কি, পর্তুগিজ, ইংরেজি, ফরাসি ও ওলন্দাজ থেকে। বাণিজ্য, শাসন ও ধর্মপ্রচারের সূত্রেই এসব শব্দ বাংলায় ঢুকেছে।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















