উচ্চারণে প্রায় একই শোনালেও বানান ও অর্থে ভিন্ন এমন শব্দকে সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ বলে — যেমন অন্ন অর্থ ভাত, অন্য অর্থ ভিন্ন।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ — অর্থসহ উদাহরণ
উচ্চারণে এক অথচ বানান ও অর্থে ভিন্ন শব্দজোড়ার ব্যাখ্যা এবং বাক্যে প্রয়োগের নিয়ম।
সংজ্ঞা
উচ্চারণে প্রায় একই শোনালেও বানান ও অর্থের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন — এমন শব্দগুলোকে সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ বলে।
বিস্তারিত আলোচনা
"অন্ন" মানে ভাত আর "অন্য" মানে ভিন্ন; উচ্চারণে দুটি প্রায় একই শোনায় কিন্তু বানান ও অর্থ আলাদা। এমন জোড়া বাংলায় অনেক — "কূল" অর্থ তীর ও "কুল" অর্থ বংশ, "নীর" অর্থ জল ও "নীড়" অর্থ পাখির বাসা, "শব" অর্থ মৃতদেহ ও "সব" অর্থ সকল। সবচেয়ে চেনা জোড়াটি সম্ভবত "দিন" ও "দীন", যেখানে প্রথমটি দিবস আর দ্বিতীয়টি দরিদ্র।
এই শব্দগুলোতে ভুল হয় মূলত তিন কারণে — ই-কার ও ঈ-কারের পার্থক্য, শ-ষ-স-এর পার্থক্য এবং ন ও ণ-এর পার্থক্য। "বাণী" অর্থ কথা কিন্তু "বানি" অর্থ গয়না গড়ার মজুরি; "আপন" অর্থ নিজের কিন্তু "আপণ" অর্থ দোকান। বানানের এই ছোট একটি পার্থক্যই পুরো অর্থ বদলে দেয়, তাই লেখার সময় সতর্কতা জরুরি।
পরীক্ষায় সাধারণত একজোড়া শব্দ দিয়ে অর্থসহ বাক্য রচনা করতে বলা হয়। বাক্যটি এমন হতে হবে যেন সেখান থেকেই অর্থটি স্পষ্ট বোঝা যায় — "কূলে নৌকা ভিড়ল" ও "সে ভালো কুলের ছেলে" পাশাপাশি লিখলে পার্থক্যটি নিজেই ধরা পড়ে। কেবল অর্থ লিখে দিলে অনেক সময় পুরো নম্বর মেলে না।
মনে রাখার কথা
জোড়া ধরে অর্থসহ বাক্য লিখে অভ্যাস করলে সমোচ্চারিত শব্দে ভুল প্রায় হয় না।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
"কূল" অর্থ তীর বা নদীর পাড়, আর "কুল" অর্থ বংশ বা গোষ্ঠী। কেবল ঊ-কার ও উ-কারের পার্থক্যেই অর্থ সম্পূর্ণ বদলে যায়।
সাধারণত একজোড়া শব্দ দিয়ে অর্থসহ আলাদা বাক্য রচনা করতে বলা হয়, যাতে বাক্য থেকেই প্রতিটির অর্থ স্পষ্ট বোঝা যায়।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















