যেসব অব্যয় শব্দ বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে, তাদের অনুসর্গ বলে — যেমন দিয়ে, হতে, ছাড়া, জন্য, পর্যন্ত।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
অনুসর্গ কাকে বলে — উদাহরণ ও উপসর্গের সঙ্গে পার্থক্য
অনুসর্গের সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও উদাহরণ এবং উপসর্গের সঙ্গে পার্থক্য স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা।
সংজ্ঞা
যেসব অব্যয় শব্দ বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে, তাদের অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে — যেমন দিয়ে, হতে, চেয়ে, জন্য।
বিস্তারিত আলোচনা
অনুসর্গ পদের পরে বসে বলে এর নাম অনুসর্গ, আর উপসর্গ বসে শব্দের আগে — এটিই দুইয়ের মূল পার্থক্য। "কলম দিয়ে লিখি" বাক্যে "দিয়ে" অনুসর্গ; এটি করণ কারকের ভাব প্রকাশ করছে, ঠিক যেমন একটি বিভক্তি করত। এ কারণেই অনুসর্গকে অনেক সময় "পদান্বয়ী অব্যয়"ও বলা হয়।
অনুসর্গ দুই ধরনের হতে পারে। কিছু অনুসর্গ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় এবং নিজের অর্থ রাখে — বিনা, ব্যতীত, ছাড়া, পর্যন্ত, দ্বারা, নিমিত্ত। আবার কিছু অনুসর্গ আসলে ক্রিয়া থেকে এসেছে এবং এখন অব্যয়ের মতো কাজ করে — দিয়ে, হতে, থেকে, চেয়ে, ধরে, নিয়ে।
অনুসর্গ চেনার সহজ উপায় হলো দেখা, শব্দটি কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে সেটির সঙ্গে বাক্যের অন্য অংশের সম্পর্ক তৈরি করছে কি না। "তোমার জন্য এনেছি" বাক্যে "জন্য" অনুসর্গ, কারণ এটি "তোমার" পদের পরে বসে নিমিত্তের সম্পর্ক বোঝাচ্ছে। ইংরেজি preposition-এর সঙ্গে এর কাজের মিল আছে, তবে অবস্থান উল্টো।
মনে রাখার কথা
উপসর্গ বসে শব্দের আগে আর অনুসর্গ বসে পদের পরে — নামেই পার্থক্যটি ধরা আছে।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
উপসর্গ শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, আর অনুসর্গ পদের পরে বসে বিভক্তির মতো সম্পর্ক বোঝায়।
কর্মপ্রবচনীয় বা পদান্বয়ী অব্যয় নামেও ডাকা হয়, কারণ এটি একটি পদের সঙ্গে বাক্যের অন্য অংশের অন্বয় ঘটায়।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















