ক্রিয়া সম্পাদনের স্থান, কাল বা বিষয়কে অধিকরণ বলে এবং ক্রিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ককে অধিকরণকারক বলে — যেমন "সে ঘরে আছে"।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
অধিকরণ কারক — কাল, ভাব ও আধারাধিকরণ
অধিকরণকারকের সংজ্ঞা ও তিন প্রকার, এবং ঐকদেশিক, বৈষয়িক ও অভিব্যাপক আধারাধিকরণ।
সংজ্ঞা
ক্রিয়া সম্পাদনের স্থান, কাল বা বিষয়কে অধিকরণ বলে এবং ক্রিয়ার সঙ্গে সেই অধিকরণের যে সম্পর্ক, তাকেই অধিকরণকারক বলা হয়।
বিস্তারিত আলোচনা
ক্রিয়াপদকে "কোথায়", "কখন" বা "কীসে" প্রশ্ন করলে যে উত্তর মেলে, সেটিই অধিকরণকারক। "সে ঘরে আছে" বাক্যে "কোথায় আছে" প্রশ্নের উত্তর "ঘরে", তাই এটি অধিকরণ। অধিকরণে সাধারণত সপ্তমী বিভক্তি বসে — এ, য়, তে, এতে।
অধিকরণ তিন প্রকার। কালাধিকরণে সময় বোঝায় — "প্রভাতে সূর্য ওঠে", "সোমবারে পরীক্ষা"। ভাবাধিকরণে ভাব বা অবস্থা বোঝায় — "দুঃখে কাতর", "আনন্দে নাচে"। আর আধারাধিকরণে স্থান বা আধার বোঝায় — "নদীতে নৌকা চলে", "ঘরে বসে আছে"।
আধারাধিকরণকে আবার তিনটি উপভাগে ভাগ করা হয়। ঐকদেশিক আধারাধিকরণে বৃহৎ স্থানের একটি অংশ বোঝায় — "পুকুরে সাঁতার কাটে"। বৈষয়িক আধারাধিকরণে কোনো বিষয়ে দক্ষতা বোঝায় — "সে অঙ্কে পাকা"। আর অভিব্যাপক আধারাধিকরণে সমগ্র আধার জুড়ে থাকা বোঝায় — "তিলে তেল আছে", "সারা গায়ে ব্যথা"। এই তিনটি উপভাগ আলাদা করতে হলে দেখতে হয় আধারটির কতখানি অংশ জুড়ে ক্রিয়াটি ঘটছে, আর সেটি স্থানের কথা বলছে নাকি কোনো বিষয়ে দক্ষতার কথা বলছে।
মনে রাখার কথা
কোথায়, কখন, কীসে — এই তিনটি প্রশ্নের যেকোনো একটির উত্তর হলেই সেটি অধিকরণকারক।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
তিন প্রকার — কালাধিকরণ (প্রভাতে সূর্য ওঠে), ভাবাধিকরণ (দুঃখে কাতর) এবং আধারাধিকরণ (নদীতে নৌকা চলে)।
যেখানে সমগ্র আধার জুড়ে বিষয়টি ব্যাপ্ত থাকে, তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে — যেমন "তিলে তেল আছে", "সারা গায়ে ব্যথা"।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















