ক্রিয়া সম্পাদনের সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে। বাংলায় কাল তিন প্রকার — বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ, আর প্রত্যেকটির চারটি করে রূপ আছে।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
ক্রিয়ার কাল — বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ
ক্রিয়ার কালের সংজ্ঞা ও তিন কালের বারোটি রূপ — নিত্যবৃত্ত অতীত ও পুরাঘটিত কালসহ উদাহরণ।
সংজ্ঞা
ক্রিয়া সম্পাদনের সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে। বাংলায় কাল তিন প্রকার — বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ; প্রত্যেকটির আবার চারটি করে রূপ আছে।
বিস্তারিত আলোচনা
বর্তমান কালের চারটি রূপ। সাধারণ বর্তমানে অভ্যাস বা চিরন্তন সত্য বোঝায় — "সে রোজ হাঁটে", "সূর্য পূর্বে ওঠে"। ঘটমান বর্তমানে কাজ চলছে বোঝায় — "সে হাঁটছে"। পুরাঘটিত বর্তমানে কাজ সদ্য শেষ হয়েছে — "সে হেঁটেছে"। আর অনুজ্ঞা বর্তমানে আদেশ বা অনুরোধ বোঝায় — "তুমি হাঁটো"।
অতীত কালের চারটি রূপ একইভাবে সাজানো। সাধারণ অতীত — "সে হাঁটল"। ঘটমান অতীত — "সে হাঁটছিল"। পুরাঘটিত অতীত, যেখানে অতীতের দুটি কাজের একটি আগে ঘটেছে — "সে হেঁটেছিল"। আর নিত্যবৃত্ত অতীত, যা অতীতের অভ্যাস বোঝায় — "সে রোজ হাঁটত"। এই শেষ রূপটি বাংলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, ইংরেজিতে যার সরাসরি সমান্তরাল নেই।
ভবিষ্যৎ কালেরও চারটি রূপ — সাধারণ ভবিষ্যৎ ("সে হাঁটবে"), ঘটমান ভবিষ্যৎ ("সে হাঁটতে থাকবে"), পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ ("সে হেঁটে থাকবে") এবং অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ ("তুমি কাল হেঁটো")। বাক্যে কাল নির্ণয় করতে হলে ক্রিয়াপদের বিভক্তিটি দেখতে হয়, কারণ কালের সব তথ্য ওই বিভক্তিতেই লুকানো থাকে।
মনে রাখার কথা
ক্রিয়ার শেষ অংশটুকু অর্থাৎ বিভক্তি দেখেই কাল নির্ণয় করতে হয়, বাক্যের অন্য শব্দ দেখে নয়।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
যে অতীত কাল দিয়ে অতীতের নিয়মিত অভ্যাস বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত বলে — যেমন "সে রোজ সকালে হাঁটত", "আমরা তখন গ্রামে থাকতাম"।
পুরাঘটিত বর্তমানে কাজ সদ্য শেষ হয়েছে ও তার ফল এখনও আছে ("সে হেঁটেছে"); সাধারণ অতীতে কাজটি নিছক অতীতে ঘটেছে ("সে হাঁটল")।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















