যে সমাসে বিশেষণ ও বিশেষ্য মিলিত হয়ে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে এবং দুই পদ একই সত্তাকে বোঝায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে — যেমন নীলাকাশ, মহাজন।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
কর্মধারয় সমাস — প্রকারভেদ ও উদাহরণ
কর্মধারয় সমাসের সংজ্ঞা এবং মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত ও রূপক কর্মধারয়ের উদাহরণ।
সংজ্ঞা
যে সমাসে বিশেষণ ও বিশেষ্য পদ মিলিত হয়ে পরপদের অর্থ প্রধান রাখে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। এখানে দুই পদ একই বস্তু বা ব্যক্তিকে বোঝায়।
বিস্তারিত আলোচনা
কর্মধারয় সমাসে বিশেষণ পদটি বিশেষ্যের গুণ বা অবস্থা বোঝায়, আর দুই পদ মিলে একই সত্তাকে নির্দেশ করে। যেমন নীল যে আকাশ = নীলাকাশ, মহৎ যে জন = মহাজন, কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা, পীত যে অম্বর = পীতাম্বর। এখানে নীল আর আকাশ আলাদা দুটি জিনিস নয়, একই আকাশের বর্ণনা।
কর্মধারয় সমাসের কয়েকটি উপবিভাগ আছে। মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পায় — সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, ঘি মাখা ভাত = ঘিভাত। উপমান কর্মধারয়ে সাধারণ ধর্ম উপমেয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় — তুষারের মতো শুভ্র = তুষারশুভ্র। উপমিত কর্মধারয়ে উপমেয় উপমানের সঙ্গে বসে — পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ।
রূপক কর্মধারয়ে উপমেয় ও উপমানের মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয়, ব্যাসবাক্যে বসে "রূপ" — যেমন বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি, ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল। এই উপবিভাগগুলো পরীক্ষায় নিয়মিত আসে, তাই প্রতিটির অন্তত দুটি উদাহরণ মনে রাখা দরকার।
মনে রাখার কথা
কর্মধারয়ে দুই পদ একই সত্তাকে বোঝায় — এটি মনে রাখলে তৎপুরুষের সঙ্গে গুলিয়ে যাবে না।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
যেখানে উপমেয় ও উপমানের মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয় এবং ব্যাসবাক্যে "রূপ" বসে — যেমন বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল।
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পায় — যেমন সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, ঘি মাখা ভাত = ঘিভাত।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















