লেখায় থামা, বিরতি ও ভাবের গতি বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, তাদের যতিচিহ্ন বা বিরামচিহ্ন বলে — যেমন দাঁড়ি, কমা, প্রশ্নচিহ্ন।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
যতিচিহ্ন — বিরামচিহ্নের তালিকা ও ব্যবহারের নিয়ম
যতিচিহ্নের সংজ্ঞা, প্রধান চিহ্নগুলোর তালিকা এবং কোথায় কোন চিহ্ন বসে তার নিয়ম।
সংজ্ঞা
লেখায় থামা, বিরতি ও ভাবের গতি বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, তাদের যতিচিহ্ন বা বিরামচিহ্ন বলে।
বিস্তারিত আলোচনা
কথা বলার সময় আমরা স্বাভাবিকভাবেই থামি, জোর দিই, প্রশ্ন করি। লেখায় সেই থামা ও সুরের কাজটি করে যতিচিহ্ন। যতিচিহ্ন ছাড়া লেখা পড়তে গিয়ে অর্থ গুলিয়ে যায় — "চলো খাই" আর "চলো, খাই" এক কথা নয়। তাই যতিচিহ্ন কেবল সাজসজ্জা নয়, অর্থের অংশ।
প্রধান যতিচিহ্নগুলো হলো দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ (।), কমা বা পাদচ্ছেদ (,), সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ (;), কোলন (:), প্রশ্নচিহ্ন (?), বিস্ময়চিহ্ন (!), উদ্ধরণচিহ্ন (" "), হাইফেন (-), ড্যাশ (—), বন্ধনী ( ) এবং ইলেক বা লোপচিহ্ন (্)। প্রতিটির থামার মাত্রা আলাদা — দাঁড়িতে সবচেয়ে বেশি, কমায় সবচেয়ে কম।
ব্যবহারের কয়েকটি সাধারণ নিয়ম আছে। বাক্য শেষে দাঁড়ি বসে, তবে প্রশ্নবোধক বাক্যে প্রশ্নচিহ্ন ও আবেগসূচক বাক্যে বিস্ময়চিহ্ন বসে। একজাতীয় একাধিক পদের মাঝে কমা বসে। সম্বোধনের পরে কমা বসে। উদ্ধৃত কথা উদ্ধরণচিহ্নের ভেতরে থাকে, এবং সাধারণত তার আগে কমা বসে। বাংলায় ইংরেজির ফুলস্টপের বদলে দাঁড়ি ব্যবহারই প্রমিত রীতি।
মনে রাখার কথা
যতিচিহ্ন লেখার সাজসজ্জা নয়, অর্থেরই অংশ — একটি কমা সরালে বাক্যের মানে বদলে যেতে পারে।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
দাঁড়িতে বাক্য সম্পূর্ণ শেষ হয় বলে থামা সবচেয়ে দীর্ঘ, আর কমায় বাক্যের ভেতরে সামান্য বিরতি বোঝায়, তাই থামা সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত।
না, প্রমিত রীতিতে বাংলা বাক্য শেষে দাঁড়ি (।) বসে। ইংরেজির ফুলস্টপ বাংলা বাক্যের শেষে ব্যবহার করা হয় না।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















