বিসর্গের (ঃ) সঙ্গে স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে। যেমন মনঃ + রম = মনোরম।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
বিসর্গ সন্ধি — নিয়ম ও উদাহরণসহ ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধির নিয়ম ও উদাহরণ — মনোরম, নীরব, নিশ্চয় প্রভৃতির সন্ধি বিচ্ছেদসহ।
সংজ্ঞা
বিসর্গের (ঃ) সঙ্গে স্বর বা ব্যঞ্জনের মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে বিসর্গসন্ধি বলে। বিসর্গ মূলত র্ বা স্ ধ্বনির পরিবর্তিত রূপ, তাই সন্ধিতে সে আবার সেই রূপেই ফিরে যায়।
বিস্তারিত আলোচনা
বিসর্গসন্ধি বোঝার আগে জানা দরকার বিসর্গ কোথা থেকে এসেছে। সংস্কৃতে শব্দের শেষে থাকা র্ বা স্ ধ্বনি উচ্চারণে দুর্বল হয়ে বিসর্গে পরিণত হয়। সন্ধিতে যখন পরের ধ্বনির প্রভাব পড়ে, বিসর্গ আবার র্ বা স্-এর দিকে ফিরে যায় কিংবা ও-কারে বদলে যায়। এই উৎসটুকু মনে রাখলে নিয়মগুলো অনেক যুক্তিসংগত মনে হয়।
প্রধান নিয়মগুলোর একটি হলো অ-কারের পরে বিসর্গ এবং তার পরে অ বা ঘোষধ্বনি থাকলে বিসর্গ ও-কারে পরিণত হয়। যেমন মনঃ + রম = মনোরম, তপঃ + বন = তপোবন, অধঃ + গতি = অধোগতি। আবার ই বা উ-কারের পরে বিসর্গ থাকলে এবং পরে ঘোষধ্বনি থাকলে বিসর্গ র্-এ পরিণত হয় — নিঃ + আকার = নিরাকার, দুঃ + যোগ = দুর্যোগ।
বিসর্গের পরে যদি অঘোষ ধ্বনি বা উষ্ম ধ্বনি থাকে, তবে বিসর্গ প্রায়ই স্, শ্ বা ষ্ হয়ে যায় — যেমন নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, নিঃ + কলঙ্ক = নিষ্কলঙ্ক। আর কিছু ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায় এবং আগের স্বর দীর্ঘ হয়ে যায়, যেমন নিঃ + রব = নীরব।
মনে রাখার কথা
বিসর্গকে স্বাধীন ধ্বনি না ভেবে র্ বা স্-এর ছদ্মরূপ ভাবলে বিসর্গসন্ধির নিয়ম অনেক সহজে মনে থাকে।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
নিঃ + রব = নীরব। এখানে বিসর্গ লোপ পেয়েছে এবং আগের ই-কার দীর্ঘ হয়ে ঈ-কারে পরিণত হয়েছে।
নিঃ + চয় = নিশ্চয়। বিসর্গের পরে চ বা ছ থাকলে বিসর্গ শ্-এ পরিণত হয় — এটিই বিসর্গসন্ধির অন্যতম নিয়ম।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















