তৎসম শব্দের বানান সংস্কৃত রীতিতে অপরিবর্তিত থাকে (নদী, স্ত্রী); তৎসম-বহির্ভূত শব্দে সাধারণত ই-কার ও উ-কার বসে (বাড়ি, চিঠি, খুশি)।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম — মূল সূত্রগুলো
তৎসম ও তৎসম-বহির্ভূত শব্দের বানান, ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধানের সীমা এবং রেফ-সংক্রান্ত নিয়ম।
সংজ্ঞা
বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসরণ করে শব্দের বানান লেখার যে স্বীকৃত রীতি, তাকে প্রমিত বানানরীতি বলা হয়।
বিস্তারিত আলোচনা
প্রমিত বানানের সবচেয়ে বড় ভাগটি হলো তৎসম ও তৎসম-বহির্ভূত শব্দের আলাদা নিয়ম। তৎসম অর্থাৎ সংস্কৃত থেকে অবিকৃত অবস্থায় আসা শব্দের বানান সংস্কৃত রীতিতেই অপরিবর্তিত থাকে — নদী, স্ত্রী, পৃথিবী। কিন্তু তৎসম নয় এমন শব্দে, অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দে, সাধারণত ই-কার ও উ-কার বসে — বাড়ি, গাড়ি, চিঠি, বাঁশি, খুশি।
ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধানও কেবল তৎসম শব্দেই প্রযোজ্য। দেশি, বিদেশি ও তদ্ভব শব্দে মূর্ধন্য ণ বসে না — তাই "কান", "সোনা", "ইরান" এমনভাবেই লেখা হয়। তেমনি বিদেশি শব্দে ষ ব্যবহার করা হয় না; ইংরেজি বা আরবি-ফারসি শব্দে স বসে। এই একটি সূত্র মনে রাখলে বহু বানান ভুল আপনাআপনি এড়ানো যায়।
আরও কয়েকটি রীতি নিয়মিত কাজে লাগে। রেফের পরে ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব হয় না — কর্ম, ধর্ম, সূর্য এভাবেই লেখা হয়, দুবার ম বা য নয়। বিদেশি শব্দে সাধারণত অনুস্বার নয়, ঙ ব্যবহৃত হয়। আর ব্যক্তিনাম, প্রতিষ্ঠানের নাম বা লেখকের নিজস্ব বানান রীতি এই নিয়মের বাইরে থাকতে পারে, কারণ নামের বানানে ব্যক্তির পছন্দই অগ্রগণ্য।
মনে রাখার কথা
শব্দটি তৎসম কি না — এই একটি প্রশ্নের উত্তরই বাংলা বানানের বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত ঠিক করে দেয়।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
কেবল তৎসম শব্দে। দেশি, বিদেশি ও তদ্ভব শব্দে মূর্ধন্য ণ বসে না — তাই কান, সোনা, ইরান এভাবেই লেখা হয়।
না, বসে না। প্রমিত রীতিতে কর্ম, ধর্ম, সূর্য এভাবেই লেখা হয় — রেফের পরে ব্যঞ্জনটি দুবার লেখা হয় না।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















