মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

বাংলা · বাংলা রচনা

মাদকাসক্তি

মাদকাসক্তি রচনা — কারণ, শারীরিক ও সামাজিক ক্ষতি এবং প্রতিরোধের উপায়।

ভূমিকা

মাদকাসক্তি আজ তরুণ সমাজের সবচেয়ে বড় হুমকি। একটি পরিবার, একটি সম্ভাবনাময় জীবন ও শেষ পর্যন্ত একটি জাতির ভবিষ্যৎ — মাদক ধাপে ধাপে সবকিছু ধ্বংস করে দেয়।

মূল আলোচনা

মাদকাসক্তির শুরু প্রায়ই কৌতূহল থেকে। বন্ধুদের চাপে বা নতুন কিছু চেষ্টা করার আগ্রহে একবার গ্রহণ করার পর ধীরে ধীরে তা অভ্যাসে এবং পরে নির্ভরতায় পরিণত হয়।

পারিবারিক অশান্তি ও অভিভাবকের উদাসীনতা বড় কারণ। যে কিশোর ঘরে মনোযোগ ও নিরাপত্তা পায় না, সে বাইরের ভুল সঙ্গে আশ্রয় খোঁজে এবং সহজেই বিপথে চলে যায়।

বেকারত্ব ও হতাশাও ভূমিকা রাখে। শিক্ষা শেষ করেও কাজ না পাওয়ার গ্লানি অনেক তরুণকে সাময়িক ভুলে থাকার পথ খুঁজতে বাধ্য করে, আর মাদক ব্যবসায়ীরা ঠিক এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগায়।

শারীরিক ক্ষতি ভয়াবহ। মাদক লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি করে; সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করার কারণে হেপাটাইটিস ও এইচআইভির মতো রোগ ছড়ায়।

মানসিক অবক্ষয় আরও গভীর। স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নষ্ট হয় এবং আসক্ত ব্যক্তি ক্রমশ মিথ্যা ও গোপনীয়তার জালে জড়িয়ে পড়েন।

পরিবারে নেমে আসে বিপর্যয়। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে; বহু পরিবার সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

প্রতিরোধের প্রথম ধাপ পরিবার। সন্তানের বন্ধু কারা, সময় কোথায় কাটায় ও আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন এসেছে কি না — অভিভাবকের এই নজরদারি অনেক বিপদ আগেই ঠেকিয়ে দেয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষার্থীর অবসর গঠনমূলক কাজে ব্যয় হয় এবং হতাশা কমে।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সরবরাহ বন্ধ করা ও পুনর্বাসন — দুটিই জরুরি। কেবল শাস্তি দিয়ে আসক্তি সারানো যায় না; চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকেন্দ্রের মাধ্যমে আসক্তকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হয়।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও ভূমিকা রাখতে পারে। মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক প্রচারণা তরুণদের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলে, কেবল নিষেধাজ্ঞার চেয়ে যা বেশি কার্যকর।

সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলানো দরকার। আসক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে একঘরে করে রাখলে সে আরও গভীরে তলিয়ে যায়; বরং তাকে রোগী হিসেবে দেখে চিকিৎসার সুযোগ দিলে ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

উপসংহার

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একজন আসক্তকে ঘৃণা নয়, চিকিৎসা ও সহানুভূতি দিয়েই ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

উপযোগী শ্রেণি: অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও বাংলা রচনা পড়ো

বাংলা রচনা-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।