বিশেষ্যের পুনরাবৃত্তি এড়াতে তার পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে — যেমন আমি, তুমি, সে, এটি, কেউ।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
সর্বনাম পদ — প্রকারভেদ ও উদাহরণ
সর্বনামের সংজ্ঞা এবং ব্যক্তিবাচক, আত্মবাচক, সাপেক্ষ, প্রশ্নবাচক ও অনির্দিষ্ট সর্বনামের উদাহরণ।
সংজ্ঞা
বিশেষ্যের পুনরাবৃত্তি এড়াতে তার পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে — যেমন আমি, তুমি, সে, এটি, যা, কেউ।
বিস্তারিত আলোচনা
"করিম বাজারে গেল। করিম চাল কিনল। করিম বাড়ি ফিরল।" — এভাবে লিখলে ভাষা ভারী হয়ে যায়। তাই দ্বিতীয়বার থেকে "সে" বসানো হয়। এই কাজটিই সর্বনামের। যে বিশেষ্যের বদলে সর্বনাম বসে, তাকে সেই সর্বনামের পূর্বপদ বা বিশেষ্যপদ বলা হয়, এবং বাক্যে সেটি আগে উল্লেখ থাকা দরকার নইলে অর্থ অস্পষ্ট হয়।
সর্বনামের কয়েকটি প্রধান শ্রেণি আছে। ব্যক্তিবাচক সর্বনাম — আমি, আমরা, তুমি, সে, তারা। আত্মবাচক — নিজে, স্বয়ং, খোদ। সাপেক্ষ সর্বনাম জোড়ায় বসে — যে-সে, যিনি-তিনি, যেমন-তেমন। সাকল্যবাচক সবাইকে বোঝায় — সকল, সব, তাবৎ। সংযোগজ্ঞাপক — যে, যিনি, যা।
আরও কয়েকটি শ্রেণি পরীক্ষায় আসে। প্রশ্নবাচক সর্বনাম — কে, কী, কোন, কারা। অনির্দিষ্ট সর্বনাম — কেউ, কিছু, কোনো, একজন। নির্দিষ্টতা বোঝাতে বসে নির্দেশক সর্বনাম — এই, এটি, ঐ, সেটি। আর অন্যাদিবাচক সর্বনাম অন্য কাউকে বোঝায় — অন্য, পর, অপর। প্রতিটির অন্তত দুটি উদাহরণ মনে রাখলে পদ নির্ণয়ে ভুল হয় না।
মনে রাখার কথা
সর্বনাম বসানোর আগে যে বিশেষ্যের বদলে বসছে সেটি বাক্যে স্পষ্ট আছে কি না দেখে নিতে হয়।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
যে সর্বনাম জোড়ায় জোড়ায় বসে পরস্পরের ওপর নির্ভর করে অর্থ প্রকাশ করে — যেমন যে-সে, যিনি-তিনি, যেমন-তেমন, যত-তত।
নিজে, স্বয়ং, খোদ, আপনি — এগুলো আত্মবাচক সর্বনাম। যেমন "সে নিজে কাজটি করেছে" বাক্যে "নিজে" আত্মবাচক সর্বনাম।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















