তৎসম শব্দে কোন অবস্থায় দন্ত্য-ন না হয়ে মূর্ধন্য-ণ হবে, তার নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে। এটি কেবল তৎসম শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
ণত্ব বিধান — নিয়ম ও উদাহরণসহ ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দে কখন ণ হয় — ণত্ব বিধানের সব নিয়ম, ব্যতিক্রম ও উদাহরণ।
সংজ্ঞা
তৎসম শব্দে কখন দন্ত্য-ন না হয়ে মূর্ধন্য-ণ হবে, সেই নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে। এটি কেবল তৎসম শব্দে খাটে — খাঁটি বাংলা ও বিদেশি শব্দে ণ-এর এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
বিস্তারিত আলোচনা
ণত্ব বিধানের প্রধান শর্ত হলো ঋ, র, ষ — এই তিনটি ধ্বনির উপস্থিতি। ঋ-কার, র্ বা ষ-এর পরে ন থাকলে সেই ন সাধারণত ণ হয়ে যায়। যেমন ঋণ, তৃণ, বর্ণ, চরণ, কারণ, ভীষণ, ভাষণ, ঊষ্ণ। উচ্চারণের সময় জিহ্বা মূর্ধায় পৌঁছে যায় বলেই এই পরিবর্তন ঘটে, তাই নিয়মটি নিছক আরোপিত নয়।
এই তিনটি ধ্বনির পর সরাসরি ন না থেকে মাঝখানে স্বরধ্বনি, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, ব, হ বা অনুস্বার থাকলেও ণ হয়। যেমন রামায়ণ, হরিণ, লক্ষ্মণ, ব্রাহ্মণ। তবে মাঝখানে ত-বর্গ, চ-বর্গ, ট-বর্গ বা ল, শ, স থাকলে ণ হয় না — যেমন অর্চনা, বর্তন, দর্শন।
কয়েকটি শব্দে ণ ব্যবহৃত হয় কোনো নিয়ম ছাড়াই, শুধু প্রচলনের কারণে — যেমন গণ, বাণ, মণি, পুণ্য, লবণ, কল্যাণ, নিপুণ, চাণক্য। আবার সমাসবদ্ধ পদে দুটি শব্দ আলাদা অর্থে থাকলে ণ হয় না, যেমন ত্রিনয়ন। খাঁটি বাংলা শব্দে যেমন ধরন, সোনা, কান — সেখানে দন্ত্য-ন-ই থাকে।
মনে রাখার কথা
ঋ, র, ষ — এই তিনটি অক্ষর মনে রাখলে ণত্ব বিধানের অর্ধেক কাজ হয়ে যায়; বাকিটা ব্যতিক্রমের তালিকা।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ঋ, র বা ষ-এর পরে ন থাকলে তা ণ হয় — যেমন ঋণ, বর্ণ, ভীষণ। মাঝে স্বরধ্বনি, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, ব, হ থাকলেও ণ হয়, যেমন রামায়ণ, ব্রাহ্মণ।
ধ্বনিতত্ত্বে। কারণ এটি ধ্বনির পারস্পরিক প্রভাবে উচ্চারণ ও বানানের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে, শব্দ বা বাক্যের গঠন নিয়ে নয়।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















