যে সন্ধিগুলো কোনো প্রচলিত নিয়মে ব্যাখ্যা করা যায় না অথচ ভাষায় শুদ্ধ বলে স্বীকৃত, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। যেমন কুল + অটা = কুলটা।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি — তালিকা ও উদাহরণ
নিয়মে ব্যাখ্যা করা যায় না এমন সন্ধিগুলোর তালিকা — কুলটা, ষোড়শ, পরস্পর প্রভৃতিসহ।
সংজ্ঞা
যে সন্ধিগুলো কোনো প্রচলিত নিয়মে ব্যাখ্যা করা যায় না, অথচ ভাষায় সিদ্ধ বলে গৃহীত, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। এগুলোর জন্য যুক্তি খোঁজা বৃথা — মনে রাখাই একমাত্র উপায়।
বিস্তারিত আলোচনা
ভাষা সবসময় নিয়ম মেনে চলে না। বহু শব্দ দীর্ঘদিনের ব্যবহারে এমন রূপ নিয়েছে যা কোনো সন্ধিসূত্রে ফেলা যায় না, কিন্তু শুদ্ধ বলে স্বীকৃত। ব্যাকরণে এগুলোকে আলাদা করে "নিপাতনে সিদ্ধ" বলা হয়, অর্থাৎ নিয়মে নয়, প্রয়োগেই সিদ্ধ। পরীক্ষায় এ ধরনের শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ চাওয়া হলে নিয়ম খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়।
স্বরসন্ধিতে নিপাতনে সিদ্ধ উদাহরণের মধ্যে আছে কুল + অটা = কুলটা, প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়, অন্য + অন্য = অন্যান্য, মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড, শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন। প্রতিটিরই মিলিত রূপ প্রচলিত নিয়মে যা হওয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে আলাদা।
ব্যঞ্জনসন্ধিতেও এমন উদাহরণ কম নয় — এক + দশ = একাদশ, ষট্ + দশ = ষোড়শ, পর + পর = পরস্পর, বন + পতি = বনস্পতি, গো + পদ = গোষ্পদ, তৎ + কর = তস্কর। আর বিসর্গসন্ধিতে আছে ভাঃ + কর = ভাস্কর, অহঃ + অহ = অহরহ। এগুলোর তালিকা খুব দীর্ঘ নয়, তাই একবারে মুখস্থ করে নেওয়া সম্ভব।
মনে রাখার কথা
নিপাতনে সিদ্ধ শব্দ বেশি নয়, কিন্তু পরীক্ষায় নিয়মিত আসে — তাই তালিকাটি আলাদা খাতায় লিখে রাখা লাভজনক।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ষট্ + দশ = ষোড়শ। এটি কোনো সাধারণ নিয়মে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাই একে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি ধরা হয়।
নেই। এগুলোর পেছনে কোনো সূত্র নেই বলেই এদের আলাদা নাম দেওয়া হয়েছে। তবে সংখ্যা সীমিত, তাই তালিকা করে পড়লে সহজেই আয়ত্তে আসে।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















