যে পদ দ্বারা কোনো কাজ করা বা হওয়া বোঝায়, তাকে ক্রিয়াপদ বলে। ধাতুর সঙ্গে ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
ক্রিয়াপদ — সকর্মক, অকর্মক ও প্রকারভেদ
ক্রিয়াপদের সংজ্ঞা, সকর্মক-অকর্মক-দ্বিকর্মক ভেদ এবং সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার পার্থক্য।
সংজ্ঞা
যে পদ দ্বারা কোনো কাজ করা বা হওয়া বোঝায়, তাকে ক্রিয়াপদ বলে। ক্রিয়াপদ ছাড়া কোনো বাক্য সম্পূর্ণ হয় না।
বিস্তারিত আলোচনা
ক্রিয়াপদ গঠিত হয় ধাতুর সঙ্গে ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত হয়ে। "পড়ছি" শব্দে √পড় ধাতু আর "ছি" বিভক্তি। বাক্যে ক্রিয়াপদই কর্তার কাজ, কাল ও পুরুষ একসঙ্গে জানায়, তাই একে বাক্যের প্রাণ বলা হয়। কখনো ক্রিয়াপদ উহ্য থাকতে পারে, যেমন "আমি ছাত্র" বাক্যে "হই" উহ্য।
কর্মের ভিত্তিতে ক্রিয়া দুই প্রকার। সকর্মক ক্রিয়ার একটি কর্ম থাকে — "সে ভাত খায়" বাক্যে "ভাত" কর্ম। অকর্মক ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে না — "শিশুটি ঘুমায়"। কিছু ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকে, এদের বলে দ্বিকর্মক ক্রিয়া — "শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন" বাক্যে "ছাত্রকে" গৌণ কর্ম আর "বই" মুখ্য কর্ম।
গঠন অনুসারেও ক্রিয়ার ভাগ আছে। সমাপিকা ক্রিয়া বাক্য শেষ করে — "সে বাড়ি গেল"। অসমাপিকা ক্রিয়া বাক্য শেষ করে না, আরও কিছু বলার অপেক্ষায় থাকে — "সে বাড়ি গিয়ে"। এ ছাড়া যৌগিক ক্রিয়া (বলে ফেলল), মিশ্র ক্রিয়া (স্নান করা) ও প্রযোজক ক্রিয়া (পড়ানো) আলাদা শ্রেণি হিসেবে পড়ানো হয়।
মনে রাখার কথা
কর্ম আছে কি নেই — এই একটি প্রশ্নই সকর্মক ও অকর্মক ক্রিয়া আলাদা করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম থাকে, যেমন "সে ভাত খায়"; অকর্মক ক্রিয়ার কর্ম থাকে না, যেমন "শিশুটি ঘুমায়"। ক্রিয়াকে "কী" প্রশ্ন করে যাচাই করা যায়।
যে ক্রিয়া দিয়ে বাক্যের অর্থ শেষ হয় না, আরও কিছু বলার অপেক্ষায় থাকে — যেমন "সে বাড়ি গিয়ে", "খেয়ে", "পড়ে"।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















