মূলত উচ্চারণের সুবিধার জন্য। মানুষ কথা বলার সময় স্বাভাবিকভাবেই সহজ পথ বেছে নেয়, আর দীর্ঘ ব্যবহারে সেই সহজ রূপটিই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
ধ্বনি পরিবর্তন — প্রকারভেদ ও উদাহরণ
অপিনিহিতি, সমীভবন, ধ্বনি বিপর্যয়সহ ধ্বনি পরিবর্তনের সব প্রকার — উদাহরণসহ।
সংজ্ঞা
উচ্চারণের সুবিধা বা অনায়াস প্রবণতার কারণে শব্দের ভেতরের ধ্বনি যখন স্থান বদলায়, লোপ পায় বা নতুন ধ্বনি যুক্ত হয়, তাকে ধ্বনি পরিবর্তন বলে।
বিস্তারিত আলোচনা
ভাষা জীবন্ত, তাই ধ্বনি স্থির থাকে না। মানুষ কথা বলতে গিয়ে সহজ পথ খোঁজে, আর সেই সহজ করার প্রবণতা থেকেই ধ্বনি পরিবর্তন ঘটে। বহু বছরের ব্যবহারে "রাত্রি" হয়েছে "রাত", "হস্ত" হয়েছে "হাত"। এই পরিবর্তনগুলো এলোমেলো নয়; এদের নির্দিষ্ট ধরন আছে এবং ব্যাকরণে তার আলাদা নাম দেওয়া হয়েছে।
আদি স্বরাগমে শব্দের শুরুতে স্বর যুক্ত হয় — স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন। মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষে শব্দের মাঝে স্বর ঢোকে — রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম। অন্ত্য স্বরাগমে শেষে স্বর যোগ হয় — বেঞ্চ > বেঞ্চি। আবার অপিনিহিতিতে ই বা উ আগে চলে আসে — আজি > আইজ, রাখিয়া > রাইখা।
সমীভবনে পাশাপাশি দুটি অসম ধ্বনি মিলে সমান হয়ে যায় — জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না। বিষমীভবনে উল্টোটা ঘটে, দুটি সমান ধ্বনির একটি বদলে যায় — লাল > নাল, শরীর > শরীল। আর ধ্বনি বিপর্যয়ে দুটি ধ্বনি স্থান বদল করে — বাক্স > বাস্ক, রিকশা > রিশকা, পিশাচ > পিচাশ।
মনে রাখার কথা
ধ্বনি পরিবর্তন ভুল নয়, ভাষার স্বাভাবিক গতি — তবে পরীক্ষায় প্রতিটি প্রকারের নাম ও উদাহরণ আলাদা করে জানা চাই।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
শব্দের ভেতরে থাকা ই বা উ যখন উচ্চারণে আগে চলে আসে, তাকে অপিনিহিতি বলে। যেমন আজি > আইজ, রাখিয়া > রাইখা, সত্য > সইত্য।
শব্দের ভেতরের দুটি ধ্বনি পরস্পর স্থান বদল করলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন বাক্স > বাস্ক, রিকশা > রিশকা, পিশাচ > পিচাশ।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















