যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থই প্রধান না হয়ে তৃতীয় একটি অর্থ প্রধান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে — যেমন দশ আনন যার = দশানন।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
বহুব্রীহি সমাস — নিয়ম, প্রকারভেদ ও উদাহরণ
বহুব্রীহি সমাসের সংজ্ঞা, চেনার উপায় এবং সমানাধিকরণ, ব্যধিকরণ ও ব্যতিহার বহুব্রীহি।
সংজ্ঞা
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটিরই অর্থ প্রধান না হয়ে তৃতীয় কোনো অর্থ প্রধান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। সমস্তপদটি সাধারণত একটি বিশেষণে পরিণত হয়।
বিস্তারিত আলোচনা
"বহুব্রীহি" শব্দটি নিজেই একটি উদাহরণ — বহু ব্রীহি অর্থাৎ ধান আছে যার, সেই ব্যক্তি। এখানে "বহু"ও প্রধান নয়, "ব্রীহি"ও প্রধান নয়; প্রধান হলো তৃতীয় একটি অর্থ, অর্থাৎ ধনী লোক। ব্যাসবাক্যে প্রায়ই "যার", "যিনি", "যাতে" প্রভৃতি সর্বনাম বসে — এটিই বহুব্রীহি চেনার প্রধান সূত্র।
উদাহরণ দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। দশ আনন যার = দশানন (রাবণ), নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ (শিব), মহান আত্মা যার = মহাত্মা, চন্দ্র চূড়ায় যার = চন্দ্রচূড়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমস্তপদটি এমন কাউকে বোঝাচ্ছে যে সমস্যমান পদের বাইরের কেউ।
বহুব্রীহির কয়েকটি প্রকারভেদ আছে। সমানাধিকরণ বহুব্রীহিতে পূর্বপদ বিশেষণ হয় — হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী। ব্যধিকরণ বহুব্রীহিতে পূর্বপদ বিশেষ্য — আশীতে বিষ যার = আশীবিষ। ব্যতিহার বহুব্রীহিতে ক্রিয়ার পারস্পরিকতা বোঝায় — হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কেশে কেশে যে যুদ্ধ = কেশাকেশি।
মনে রাখার কথা
ব্যাসবাক্যে "যার", "যিনি" বা "যাতে" বসলে প্রায় নিশ্চিতভাবেই ধরে নেওয়া যায় সেটি বহুব্রীহি সমাস।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ব্যাসবাক্যে "যার", "যিনি", "যাতে" প্রভৃতি সর্বনাম বসে কি না দেখো। বসলে সেটি বহুব্রীহি, কারণ সমস্তপদ তৃতীয় কোনো সত্তাকে বোঝাচ্ছে।
যেখানে ক্রিয়ার পারস্পরিকতা বা পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বোঝায় — যেমন হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কেশে কেশে যে যুদ্ধ = কেশাকেশি।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















