যে শব্দগুচ্ছ আক্ষরিক অর্থ ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বাগধারা বলে — যেমন অগস্ত্য যাত্রা অর্থ চির প্রস্থান।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
বাগধারা কাকে বলে — অর্থ, উৎস ও প্রয়োগ
বাগধারার সংজ্ঞা, উৎস ও প্রয়োগের নিয়ম এবং প্রবাদের সঙ্গে পার্থক্য উদাহরণসহ।
সংজ্ঞা
যে শব্দগুচ্ছ তার আক্ষরিক অর্থ ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বাগধারা বলে।
বিস্তারিত আলোচনা
"অগস্ত্য যাত্রা" শব্দগুচ্ছের আক্ষরিক অর্থ অগস্ত্য মুনির যাত্রা, কিন্তু বাগধারা হিসেবে এর অর্থ চির প্রস্থান। এই যে আক্ষরিক অর্থ থেকে সরে গিয়ে একটি নতুন, প্রতিষ্ঠিত অর্থে দাঁড়িয়ে যাওয়া — এটিই বাগধারার বৈশিষ্ট্য। বাগধারাকে ভেঙে শব্দ ধরে অর্থ করা যায় না; পুরো গুচ্ছটিকে একক হিসেবে ধরতে হয়।
বাগধারার উৎস নানা রকম। কিছু আসে পুরাণ ও ধর্মগ্রন্থ থেকে — অকাল কুষ্মাণ্ড, গৌরচন্দ্রিকা, রাবণের চিতা। কিছু আসে সমাজজীবন ও পেশা থেকে — গোবর গণেশ, ঢাকের কাঠি, তামার বিষ। আবার কিছু আসে দেহ ও প্রকৃতির অনুষঙ্গ থেকে — চোখের বালি, হাতের পাঁচ, মাথায় হাত।
পরীক্ষায় বাগধারা থেকে সাধারণত দুই ধরনের প্রশ্ন আসে — অর্থ লেখা, এবং বাক্যে প্রয়োগ করা। বাক্যে প্রয়োগের সময় খেয়াল রাখতে হয় যেন বাগধারাটির বিশিষ্ট অর্থই বাক্যে ফুটে ওঠে, আক্ষরিক অর্থ নয়। "তার হাতের পাঁচ বলতে এই জমিটুকুই" — এখানে শেষ সম্বল অর্থেই প্রয়োগটি সার্থক হয়েছে।
মনে রাখার কথা
বাগধারা মুখস্থ করার সময় অর্থের পাশে একটি করে প্রয়োগবাক্যও লিখে রাখলে পরীক্ষায় কাজে লাগে।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
বাগধারা একটি শব্দগুচ্ছ, নিজে সম্পূর্ণ বাক্য নয়; প্রবাদ একটি পূর্ণ বাক্য যা অভিজ্ঞতাজাত উপদেশ বা সত্য প্রকাশ করে।
পুরাণ ও ধর্মগ্রন্থ, সমাজজীবন ও পেশা, এবং দেহ ও প্রকৃতির অনুষঙ্গ — এই তিন উৎস থেকেই বাংলা বাগধারার বেশিরভাগ এসেছে।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















