বাক্যে কর্তা, কর্ম না ক্রিয়ার ভাব কোনটি প্রধান, তার ভিত্তিতে বাক্যের যে রূপভেদ হয়, তাকে বাচ্য বলে। এটি তিন প্রকার।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
বাচ্য — কর্তৃ, কর্ম ও ভাববাচ্য এবং বাচ্য পরিবর্তন
বাচ্যের সংজ্ঞা, তিন প্রকারভেদ এবং কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম।
সংজ্ঞা
বাক্যে কর্তা, কর্ম না ক্রিয়ার ভাব — কোনটি প্রধান, তার ভিত্তিতে বাক্যের যে রূপভেদ হয়, তাকে বাচ্য বলে। বাচ্য তিন প্রকার।
বিস্তারিত আলোচনা
কর্তৃবাচ্যে কর্তাই প্রধান এবং ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে — "রহিম বইটি পড়ে"। এটি বাংলার স্বাভাবিক ও সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বাচ্য। এখানে কর্তা শূন্য বিভক্তিতে থাকে এবং ক্রিয়াপদ কর্তার পুরুষ অনুযায়ী রূপ নেয়।
কর্মবাচ্যে কর্মই প্রধান হয়ে ওঠে এবং কর্তা গৌণ হয়ে "কর্তৃক" বা "দ্বারা" নিয়ে বসে — "রহিম কর্তৃক বইটি পঠিত হয়"। এখানে ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়। ভাববাচ্যে ক্রিয়ার ভাবটিই প্রধান, কর্তা ষষ্ঠী বা তৃতীয়া বিভক্তি নেয় এবং ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের রূপে থাকে — "আমার যাওয়া হবে না"।
বাচ্য পরিবর্তনের নিয়ম নির্দিষ্ট। কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে যেতে কর্তায় "কর্তৃক" বা "দ্বারা" যোগ করতে হয়, কর্মকে শূন্য বিভক্তিতে আনতে হয় এবং ক্রিয়াকে কর্মভাবাপন্ন করতে হয়। উল্টো পথে গেলে ঠিক বিপরীত ধাপগুলো প্রয়োগ করতে হয়। কাল ও অর্থ অপরিবর্তিত রাখাই বাচ্য পরিবর্তনের প্রধান শর্ত।
মনে রাখার কথা
বাচ্য বদলালেও বাক্যের কাল ও মূল অর্থ অবিকল একই থাকতে হবে, নইলে রূপান্তরটি ভুল।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
যে বাচ্যে ক্রিয়ার ভাবটিই প্রধান হয়, কর্তা ষষ্ঠী বা তৃতীয়া বিভক্তি নেয় এবং ক্রিয়া নাম পুরুষের রূপে থাকে — যেমন "আমার যাওয়া হবে না"।
কর্তায় "কর্তৃক" বা "দ্বারা" যোগ করতে হয়, কর্মকে শূন্য বিভক্তিতে আনতে হয় এবং ক্রিয়াকে কর্মভাবাপন্ন করতে হয়। কাল অপরিবর্তিত থাকবে।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















