“অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।” — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভাবসম্প্রসারণে প্রথমে পূর্ণ উদ্ধৃতিটি লিখে নিলে উত্তর গোছানো দেখায়।
বাংলা · ভাবসম্প্রসারণ
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে — ভাবসম্প্রসারণ, মূলভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
অন্যায়কারী যেমন দোষী, অন্যায় মুখ বুজে সহ্যকারীও তেমনি দোষী। নীরব থাকা মানে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া, তাই দুজনের শাস্তিই প্রাপ্য।
সম্প্রসারিত ভাব
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই উক্তি প্রতিবাদহীনতার বিরুদ্ধে এক তীব্র অভিযোগ। সমাজে অন্যায় টিকে থাকে দুই কারণে — একদল তা করে, আরেক দল তা দেখেও চুপ থাকে। দ্বিতীয় দলটি সংখ্যায় অনেক বড়, আর তাদের নীরবতাই অন্যায়কারীর সবচেয়ে বড় ভরসা।
যে শিক্ষার্থী সহপাঠীকে র্যাগিং হতে দেখে চুপ করে সরে যায়, যে প্রতিবেশী পাশের বাড়িতে বাল্যবিবাহ হতে দেখেও কিছু বলে না, তারা নিজেরা অন্যায় করছে না ঠিকই, কিন্তু অন্যায়ের পথ পরিষ্কার রাখছে। প্রতিবাদ না করার অভ্যাস একবার তৈরি হলে সমাজে অবিচার স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
ইতিহাস বলে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদই পরিবর্তন এনেছে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ — প্রতিটি অর্জনের পেছনে ছিল অন্যায় মেনে না নেওয়ার সাহস। প্রতিবাদ সব সময় বড় আন্দোলন হতে হয় না; সময়মতো একটি সত্য কথা বলাও প্রতিবাদ।
প্রতিবাদ মানে বেপরোয়া হয়ে ওঠা নয়। শিক্ষার্থীর হাতে আছে শিক্ষক ও অভিভাবককে জানানোর সুযোগ, নাগরিকের হাতে আছে অভিযোগ দায়ের, আইনি প্রতিকার ও গণমাধ্যমের কাছে যাওয়ার পথ। ভাবনাটি যত ঠান্ডা মাথায় ও প্রমাণসহ উপস্থাপন করা যায়, প্রতিবাদ তত কার্যকর হয়। ভয় নয়, বিবেচনাই প্রতিবাদের সঠিক সঙ্গী।
মন্তব্য
তাই অন্যায় দেখলে নীরব থাকা চলবে না। প্রতিবাদহীন বিবেক ধীরে ধীরে অন্যায়ের অংশীদার হয়ে যায়।
উপযোগী শ্রেণি: নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
কারণ নীরবতা অন্যায়কারীকে নিরাপত্তা দেয়। প্রতিবাদ না হলে অন্যায় বারবার ঘটতে থাকে, ফলে সহনশীলতা পরোক্ষে অন্যায়কে টিকিয়ে রাখে।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















